হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলন
বাঁধের কাজে বিলম্বে উদ্বেগ, আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
- আপলোড সময় : ০৭-০১-২০২৬ ০৯:০১:৪৫ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৭-০১-২০২৬ ০৯:০১:৪৫ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ::
ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শুরুতে বিলম্বে উদ্বেগ জানিয়েছে হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটি। মঙ্গলবার দুপুরে শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট স্বপন কুমার দাস রায়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায়।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০১৭ সালে হাওরে অনিয়ম ও অবহেলার কারণে কৃষকের ফসলহানির প্রতিবাদ থেকেই ‘হাওর বাঁচাও আন্দোলন’-এর জন্ম। জন্মলগ্ন থেকেই কৃষকের অধিকার, হাওরের ফসল ও দেশের খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় সংগঠনটি রাজপথে সক্রিয় রয়েছে। কৃষকদের দাবি আদায়ে আমরা কথা বলে আসছি। তিনি বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পিআইসি গঠন, ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বাঁধের কাজ শুরু এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও বাস্তবে তার ব্যত্যয় ঘটেছে। লোক দেখানো উদ্বোধনের ২০ দিন পার হলেও অধিকাংশ উপজেলায় কাজ শুরু হয়নি। নিয়মরক্ষার পিআইসি অনুমোদন দেওয়া হলেও কার্যক্রম নেই।
তিনি জানান, শাল্লা, ধর্মপাশা, মধ্যনগর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, দিরাই ও শান্তিগঞ্জসহ একাধিক উপজেলায় বহু পিআইসি এখনো কাজ শুরু করেনি। অনেক উপজেলায় পূর্ণাঙ্গ পিআইসি গঠনও স¤পন্ন হয়নি। হালির, শনির, দেখার, কানলার, ছায়ার, উৎগল, মহালয়া, সোনামড়ল ও বরাম হাওরসহ অধিকাংশ হাওরে বাঁধ মেরামত ও ভাঙা বন্ধের কাজ শুরু হয়নি।
বিজন সেন রায় বলেন, কাজের বিলম্বের কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাঁধ নির্মাণ অসম্ভব হয়ে পড়বে। দেরিতে করা বাঁধ কখনোই টেকসই হয় না। দুর্বল বাঁধ মানেই হাওর ডুবি ও ফসলহানি। এতে প্রায় দুই লাখ বোরো চাষী পরিবার চরম অনিশ্চয়তায় পড়বেন। তিনি অভিযোগ করেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকঢোল পিটিয়ে ফিতা কাটা হলেও মাঠে বাস্তব কাজ নেই। কাবিটা মনিটরিং কমিটি ও পানি উন্নয়ন বোর্ড বরাদ্দ ও প্রকল্প থাকার কথা বললেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। পিআইসি নিয়ে কৃষকদের সঙ্গে এক ধরনের ‘সাপ-লুডু খেলা’ চলছে। তিনি আরও বলেন, অনেক স্থানে আগের বছরের তুলনায় বরাদ্দ অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। একটি প্রকল্প ভেঙে একাধিক প্রকল্প দেখিয়ে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে, যা দুর্নীতি ও অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়- ১. অবিলম্বে সব পিআইসি গঠন সম্পন্ন করে কাজ শুরু করতে হবে। ২. সব হাওরে দ্রুত বাঁধের কাজ দৃশ্যমান করতে হবে। ৩. কাবিটা স্কিমের নীতিমালা শতভাগ অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে। ৪. অনিয়ম, গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার দায় সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোকে দায়িত্ব নিতে হবে।
কাজ দ্রুত শুরু না হলে এবং সময়মতো বাঁধ স¤পন্ন না হলে ফসলহানির দায় সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে - এমন হুঁশিয়ারি দিয়ে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রয়োজনে আদালতে মামলা, পাশাপাশি রাজপথে আন্দোলন, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একে কুদরত পাশা। এতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি চিত্তরঞ্জন তালুকদার, জেলা কমিটির সহ সভাপতি আলীনুর, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আনোয়ারুল হক, সদস্য ইসমাইল হোসেনসহ হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সদস্যবৃন্দ।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ